সিলেট বার্তা, ২০১৯-০৪-২৭ ০৩:৫১:৪৬
হাওর বললেই যেমন বিস্তৃর্ণ জলরাশির ছবি চোখে ভেসে ওঠে, তেমনি ভেসে ওঠে বঞ্চিত এক জনপদের ছবিও। প্রকৃতিও প্রয়াশই বঞ্চনা করে করে হাওরবাসীকে। আগেভাগেই বন্যা এসে ভাসিয়ে নিয়ে যায় হাওরের একমাত্র ফসল বোরো ধান। বছরজুড়ে আড়ালে থাকলেও অকাল বন্যার সময়ে আলোচনায় ওঠে আসে হাওরের জনপদ।
তবে এবার প্রকৃতি সহায় ছিলো হাওরবাসীর। কয়েকদিন শিলাবৃষ্টিতে আতঙ্ক ছড়ালেও শেষ পর্যন্ত আগাম বন্যা আসেনি। ফলে এবার হাওরজুড়ে হাসছে বোরো ধান। ইতোমধ্যে শুরু হয়ে গেছে ধান কাটা। প্রকৃতির এই আনুকল্য আরও সপ্তাহ দুয়েক অব্যাহত থাকলে এবার হাওরে বোরোর বাম্পার ফলনের আশা করছেন কৃষক আর কৃষি বিভাগ।
ধান ভাসিয়ে নিয়ে যাওয়ায় ভয় কেটেছে। তবে এবার হাওরে দেখা দিয়েছে ভিন্ন সঙ্কট। ধান কাটার মৌসুমে তীব্র শ্রমিক সঙ্কট দেখা দিয়েছে। শ্রমিকের অভাবে বিভিন্ন এলাকায় ধান কাটা এখনও শুরু করতে পারেননি কৃষরকরা। শ্রমিক সঙ্কট মোকাবেলায় ১৫ দিনের জন্য জেলার সব বালু ও পাথর মহালের কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে জেলা প্রশাসন। আগামী ৫ মে পর্যন্ত এই নির্দেশনা বলবৎ থাকবে।
সুনামগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, এ বছর সুনামগঞ্জে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ২ লাখ ১৭ হাজার ৬৩৫ হেক্টর জমি। তবে চাষাবাদ হয়েছে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে। এ বছর জেলায় ২ লাখ ২৪ হাজার ৪৪০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ করা হয়। এবার পুরো জেলা প্রায় ১০ লাখ মেট্রিক টন ধান উৎপাদনের আশা করা হচ্ছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের পক্ষ থেকেও বালু ও পাথর কোয়ারির শ্রমিকদের ধান কাটার কাজে সহায়তা করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের সুনামগঞ্জ কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, চলতি অর্থ বছরে ৫৫৩টি প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি (পিআইসি)-এর মাধ্যমে জেলার ছোটবড়ো ৩৭টি হাওড়ে ৪৫০ কিলোমিটার ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো বাঁধে ফাটলের খবর পাওয়া যায়নি।