সিলেট বার্তা, ২০২৬-০৭-২২ ১৯:৫০:২১
সাগরে ইঞ্জিন বিকল হওয়া ট্রলারটি ৩১ ঘণ্টাপর অন্যবোটের সহায়তায় ৬ জেলেসহ ফিরলেন ঘাটে কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের হলবনিয়া নৌ-ঘাট থেকে গত ২১ জুলাই ভোর ৪টার দিকে মাছ ধরার উদ্দেশ্যে সাগরে যাত্রা করে একটি মাছ ধরার নৌকা। মাছ ধরার সময় নৌকাটির ইঞ্জিন বিকল হয়ে গেলে সেটি গভীর সাগরে ভেসে পড়ে। এরপর দীর্ঘ সময় নৌকার সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় স্বজনদের মধ্যে চরম উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়ে।
প্রায় ৩১ ঘণ্টা পর, ২২ জুলাই সকাল ১১টার দিকে, মহেশখালীর একটি মাছ ধরার বোটের সহায়তায় নৌকাটি নিরাপদে হলবনিয়া নৌ-ঘাটে ফিরে আসে। এতে বোটে থাকা ৬ জেলেই সুস্থ ও নিরাপদে ফিরেছেন।
উক্ত নৌকার মালিক ফজল কাদের ও নৌকার মাঝি ছিলেন আব্দুল মাজেদ। নৌকায় থাকা অন্য জেলেরা হলেন, রফিকুল ইসলাম পুত্র আহমদ শরীফ, নূরুল কবিরের পুত্র সালাহ আহমদ, নূরুল কবির মকসুদ আলম ও শরীফ হোসেনের পুত্র ঈমান হোসেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ইঞ্জিন বিকল হওয়ার পর নৌকাটি সাগরে ভেসে থাকায় জেলেদের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল। এ খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্বজনরা উদ্বেগে ঘাটে ভিড় করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তাদের দ্রুত সন্ধান ও উদ্ধারের আহ্বান জানানো হয়।
একপর্যায়ে সমুদ্রে অবস্থানরত মহেশখালীর একটি মাছ ধরার বোট বিকল হওয়া নৌকাটিকে দেখতে পেয়ে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেয়। তাদের সহযোগিতায় নৌকাটি নিরাপদে উপকূলে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়। নৌকাটি ঘাটে পৌঁছানোর পর আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। দীর্ঘ উৎকণ্ঠার পর ফিরে পেয়ে স্বজনরা তাদের জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েন। দুশ্চিন্তার সেই কান্না মুহূর্তেই স্বস্তি ও আনন্দের অশ্রুতে পরিণত হয়।
স্থানীয় জেলেরা বলেন, জীবিকার তাগিদে প্রতিনিয়ত জীবনবাজি রেখে গভীর সাগরে মাছ ধরতে যেতে হয়। বৈরী আবহাওয়া কিংবা যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে এমন ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি প্রায়ই তৈরি হয়। তাই গভীর সমুদ্রে জেলেদের নিরাপত্তা ও জরুরি উদ্ধার ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার দাবি জানিয়েছেন তারা।