সিলেট বার্তা, ২০২৬-০৭-২১ ১৯:৫৮:২২
২০২৬ এর ফিফা বিশ্বকাপে সারাদেশে প্রাণহানির সংখ্যা ছাড়িয়েছে ২০ জন, বলছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম
২০২৬ এর ফিফা বিশ্বকাপে সারাদেশে প্রাণহানির সংখ্যা ছাড়িয়েছে ২০ জন, বলছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম
ফুটবল বিশ্বকাপ শুধু একটি ক্রীড়া প্রতিযোগিতা নয়, এটি বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের আবেগের নাম। ২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপও এর ব্যতিক্রম নয়। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো যৌথভাবে আয়োজিত এই আসরকে ঘিরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে চলছে উৎসবের আমেজ। কিন্তু আনন্দ-উল্লাসের পাশাপাশি উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে সংঘর্ষ, দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির ঘটনাও।
সাম্প্রতিক বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন দেশে সংঘর্ষ, সড়ক দুর্ঘটনা, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়া এবং অন্যান্য ঘটনায় অন্তত ২০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যুর খবর প্রকাশিত হয়েছে। তবে এ সংখ্যা কোনো সরকারি বা ফিফার আনুষ্ঠানিক পরিসংখ্যান নয়; এটি বিভিন্ন সংবাদ প্রতিবেদনে প্রকাশিত ঘটনার সমষ্টিগত চিত্র।
বাংলাদেশে পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক। ফুটবলপ্রেমীদের আবেগ কখনো কখনো সহিংস রূপ নেওয়ায় দেশের বিভিন্ন জেলায় সংঘর্ষ, ছুরিকাঘাত, মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়া এবং অন্যান্য ঘটনায় অন্তত ১১ থেকে ১২ জনের মৃত্যুর খবর প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়া বহু মানুষ আহত হয়েছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের মানুষ ফুটবলকে নিজেদের সংস্কৃতির অংশ হিসেবে গ্রহণ করেছে। বিশেষ করে আর্জেন্টিনা, ব্রাজিলসহ বিভিন্ন দেশের সমর্থকদের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং স্থানীয় পর্যায়ে তর্ক-বিতর্ক কখনো কখনো মারাত্মক সংঘর্ষে রূপ নিচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে সামান্য কথাকাটাকাটি প্রাণঘাতী সহিংসতায় পরিণত হয়েছে।
শুধু সংঘর্ষই নয়, প্রিয় দলের পতাকা টাঙাতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে। আবার খেলা দেখতে যাওয়ার পথে সড়ক দুর্ঘটনা কিংবা বিজয় উদযাপনের সময়ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে।
সমাজবিজ্ঞানীরা বলছেন, খেলাধুলা মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি ও আনন্দ ছড়ানোর কথা। কিন্তু যখন সমর্থন অন্ধ আবেগে পরিণত হয়, তখন সেটি সামাজিক অস্থিরতার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন এবং প্রশাসনের সম্মিলিত উদ্যোগে খেলাকে ক্রীড়াসুলভ মানসিকতায় উপভোগ করার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে।
আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও বিভিন্ন এলাকায় সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উসকানিমূলক পোস্ট বা বিদ্বেষমূলক মন্তব্য থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। অনেক এলাকায় প্রশাসন জনগণকে সংযত থাকার অনুরোধ করেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ফুটবল একটি বৈশ্বিক উৎসব। এই উৎসবের আনন্দ যেন কোনো পরিবারের জন্য শোকের কারণ না হয়, সে দায়িত্ব প্রত্যেক সমর্থকের। মতভেদ থাকতে পারে, কিন্তু সেটি কখনোই সহিংসতা বা প্রাণহানির কারণ হওয়া উচিত নয়।
২০২৬ সালের বিশ্বকাপ নিঃসন্দেহে ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ আসর। তবে এই আসর থেকে সবচেয়ে বড় শিক্ষা হওয়া উচিত—খেলার প্রতি ভালোবাসা যেন মানুষের জীবন কেড়ে না নেয়। ফুটবল হোক সম্প্রীতির প্রতীক, বিভেদ বা সহিংসতার নয়।